Header Border

ঢাকা, বুধবার, ২২শে মে, ২০২৪ ইং | ৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ (গ্রীষ্মকাল) ২৫.৯৬°সে
শিরোনাম
সিরাজগঞ্জ/ বিপুল ভোটের ব্যবধানে মুক্তির জয়, তাড়াশে মনি সিরাজগঞ্জে ফেন্সিডিলসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার সাংবাদিক মহির উদ্দিন আর নেই রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে ফটোগ্রাফি সোসাইটির কমিটি গঠিত জিনের বাদশা প্রতারক চক্রের ৫ সদস্য গ্রেফতার, ৬টি সোনালী রংয়ের মুর্তি উদ্ধার সিরাজগঞ্জ/ মাটির নিচে চাপাপড়া শ্রমিককে ২ ঘন্টাপর জীবিত উদ্ধার সিরাজগঞ্জ সদরে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীকে শোকজ থানার ভিতর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর ওপর হামলা, শোকজ আমিনুল ইসলাম বৃদ্ধ বয়সে সঙ্গ মেটাতে বৃদ্ধাশ্রমের ভূমিকা বাড়ছে-দিপু মনি বেলকুচি/ থানা চত্বরে হট্টগোল, চেয়ারম্যান প্রার্থীর ১০ কর্মী গ্রেফতার

শাহজাদপুরে এমপির জামাতার বিরুদ্ধে বিধবার সম্পত্তি দখলের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক :
নিজের জমি ভরাট করতে এমপির জামাতার কাছ থেকে বালু কিনে নেয়াই কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে বিধবা হামিদা বেগম ও তার সন্তানদের। বালু বিক্রির এক পর্যায়ে বিধবার সম্পত্তির উপরই নজর পরেছে সিরাজগঞ্জ-৬ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব হাসিবুর রহমান স্বপন এর মেয়ের জামাতা মামুনের। ওই সম্পত্তি থেকে বিধবাকে উচ্ছেদ করতে ভুয়া দলিল তৈরির পাশাপাশি নিজের বাবা এবং সমর্থকদের দিয়ে একাধিক মামলা দায়ের করার অভিযোগ উঠেছে মামুনের বিরুদ্ধে।

ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর এলাকার পারকোলা মহল্লায়। অসহায় বৃদ্ধা হামিদা বেগম বেদখল হওয়া সম্পত্তি ফিরে পেতে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।

গত সোমবার (১৩ জুলাই) সরেজমিন উপজেলার পারকোলা মহল্লায় গেলে এমন অভিযোগ করেন বিধবা হামিদা বেগম।
এসময় তিনি বলেন, আমার ভাই ওয়ারেছ আলীর নামে স্বত্ব দখলীয় থাকা অবস্থায় ৬৩৭০ ও ৬৩৭১ দাগের ১৪ শতক জমি ২০০৮ সালে আমাকে লিখে দেন। সেই থেকে জমিটা আমি ও আমার পরিবার ভোগ দখল করে আসছি। সেই জমিটিতে আমার ছেলেরা মার্কেট করার জন্য মাটি ভরাট করে। এখন এমপি সাহেবের মেয়ে জামাই মামুন ও তার লোকজন ভুয়া দলিল এনে জমি জোরপূর্বক দখল করেছে।

হামিদার বড় ছেলে এনামুল হক বলেন, জমি দখলে থাকা অবস্থায় ২০১৯ নালের নভেম্বর মাসে পৌর মেয়র, কাউন্সিলরসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে ওই সম্পত্তি জরিপ করে সীমানা নির্ধারণ করা হয়। এরপর সেখানে অর্ধপাকা ভবন নির্মাণের জন্য অনুমোদন দেয় পৌরসভা। জমিটি ভরাটের জন্য ৪শ ট্রাক মাটি আমরা মামুনের কাছ থেকে ক্রয় করি। আমরা সেখানে অর্ধপাকা ভবন নির্মাণের জন্য কাজ শুরু করি। এ অবস্থায় জমিটির উপর এমপি জামাতার লোলপু দৃষ্টি পড়ে। হঠাৎ করেই তার সহযোগী শহিদুল আলম জুলফি, শাহ আলম ও শাহজাদার নেতৃত্বে ৮/১০ জন ওই জমি নিজেদের দাবী করে আমাদের সম্পত্তির চারপাশে টিনের বেড়া দেয়। মামুন রানা নিজে দাড়িয়ে থেকে আমাদের এখান থেকে বের করে দেন। সেখানে নিজ নামে মামুন পোল্ট্রিফার্ম নামে সাইনবোর্ড টানিয়ে দেয়া হয়। এরপর থেকে তার নেতৃত্বে সেখানে মাদক ব্যবসাসহ অনৈতিক কাজকর্মও চলছে।

এ সময় কথা হয় জমিটির সাবেক মালিক প্রয়াত ওয়ারেছ আলীর ছেলে প্রফেসর এম এ ওয়ালিদের সাথে। তিনি বলেন, আমার বাবা হেবানামা দলিলের মাধ্যমে ১৪ শতক জমি আমার ফুপুকে কবলা করে দেন। একসময় শুনি এখানে পুরো জায়গাটা দখল হয়ে যাচ্ছে। পরে আমরা মামলা করি। কোর্ট থেকে আমাদের পক্ষে দুটি মামলার রায় চলে আসে। এমপি সাহেবের কাছে গেলে উনি ভাল কথা বলেন, কিন্তু তার মেয়ের জামাই মামুনের ছত্রছায় কিছু মাদকাসক্ত লোকজন এই জমি দখল করে আছেন।

হামিদ বেগমের ছোট ছেলে নাজমুল হক বলেন, এমপি জামাতা মামুন রানার মহাল থেকে ৪শ গাড়ী বালু কিনে ফেলা হয়ে আমাদের নিচু ওই জমিতে। বালু ভরাট কাজ শেষে আমরা ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করি। এ সময় হঠাৎ করে নানার সম্পত্তি দাবী করে কাজ ঠেকিয়ে দেন তিনি। আমরা থানায় লিখিত অভিযোগ করলে একজন এসআইকে তদন্ত করতে নির্দেশ দেন তিনি। এদিকে মামুন রানা আমাদের হয়রানির উদ্দেশ্যে তার সমর্থকদের দিয়ে বিভিন্ন মামলা দায়ের করান। এর মধ্যে তার বাবা শাহ আলম বাদী হয়ে দায়ের করা দলিল জালিয়াতি মামলাটি যথাযথ কাগজপত্র দাখিল করতে না পারায় আদালতে খারিজ হয়ে যায়। অপরদিকে শহিদুল ইসলাম জুলফি বাদী হয়ে ১৪৪ ধারা ও শাহজাদা বাদী হয়ে রেকর্ড সংশোধন মামলা করানো হয়।

এ বিষয়ে আমরাও আদালতের আশ্রয় নেই। আদালত ওই জমির উপর নিষেধাজ্ঞা দেন। নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই চলতি বছরের ২৪ জানুয়ারী গভীর রাতে শহিদুল ইসলাম জুলফির নেতৃত্বে একদল দূবৃত্ত ওই সম্পত্তিতে ঢুকে নির্মাণ সামগ্রী লুট করে। বর্তমানে ওই সম্পত্তি মামুন রানা ও তার বাহিনীর দখলে রয়েছে।

থানা পুলিশের কাছে কাছে বার বার গেছি। পুলিশ আমাদের এমপি মহোদয়কে দেখিয়ে দেন। এসব ঘটনার পর চারবার আমরা এমপি মহোদয়ের কাছে গিয়েছি। প্রত্যেকবার তিনি ফোনে ওসি সাহেবকে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বলেন। কিন্তু ওসি সাহেব কোন পদক্ষেপ নেননি। উপরন্তু লকডাউনের মধ্যে এমপির জামাতা মো. মামুন রানার নেতৃত্বে জোরপূর্বক প্রবেশ করে আমাদের নির্মাণাধীন জায়গায় মামুন পোল্ট্রিফার্ম নামে সাইনবোর্ড টানিয়ে দেয়।

নাজমুল হক আরও বলেন, এমপি সাহেবের কথাও না শুনে তার জামাতা মামুন যা বলেন তাই শোনেন থানার ওসি। আমাদের এখন প্রশ্ন শাহজাদপুরের এমপির ক্ষমতা কি তার জামাতার হাতে।

বয়োবৃদ্ধ শ্রমিক মোহাম্মদ আলী বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে রশিদুল হাজীর (হামিদা বেগমের স্বামী) বাড়িতে কাজ করি। অনেক বছর ধরেই দেখে আসছি ওই জমি হামিদা বেগমের নামে। তারা জমিটির দখলেও ছিল।

ইলিয়াছ আলীসহ স্থানীয় কয়েক ব্যবসায়ী বলেন, জমিটা রাস্তার সাথে। সেখানে মার্কেট করছেন এনামুল সাহেব। ওই মার্কেটে ঘর নেয়ার জন্য প্রায় ৭ মাস আগে এ্যাডভান্স দিয়েছি এনামুল হককে। কিন্তু হঠাৎ দেখা যাচ্ছে এমপির জামাতা ও তার মদদপুষ্ট কিছু লোক জায়গা নিয়ে সমস্যা সৃষ্টির করছে। এ সময় স্থানীয় অনেকেই এমপি জামাতার বিরুদ্ধে ওই এলাকায় অসামাজিক কার্যকলাপ চালানোর অভিযোগ আনেন।

এ ব্যাপারে শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, বিষয়টি নিয়ে সিভিল কোর্টে মামলা বিচারাধীন রয়েছে। কোর্ট এ সংক্রান্ত কোন আদেশ দেয়নি। এছাড়াও এ বিষয়ে কোন লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। এমপির জামাতা মামুনের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রসঙ্গে ওসি বলেন, এসব অভিযোগ সত্য নয়। তার বিরুদ্ধে কেউ কোন অভিযোগ দেয়নি।
তবে মামুন রানার বাবা শাহ আলী এই জমি তাঁর বাবার নামের দাবী করে বলেন, ডিএস ও এস এ রেকর্ডে আমার বাবার নামে। তারা বলে এই জমি আমার বাবা বিক্রি করেছে। কিন্তু তারা এই দলিল দেখাতে পারেনি। এ কারণে আমরা আদালতে মামলা করেছি।

SHARE

আপনার মতামত লিখুন :

আরও পড়ুন

সিরাজগঞ্জ/ বিপুল ভোটের ব্যবধানে মুক্তির জয়, তাড়াশে মনি
সিরাজগঞ্জে ফেন্সিডিলসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার
সাংবাদিক মহির উদ্দিন আর নেই
রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে ফটোগ্রাফি সোসাইটির কমিটি গঠিত
জিনের বাদশা প্রতারক চক্রের ৫ সদস্য গ্রেফতার, ৬টি সোনালী রংয়ের মুর্তি উদ্ধার
সিরাজগঞ্জ/ মাটির নিচে চাপাপড়া শ্রমিককে ২ ঘন্টাপর জীবিত উদ্ধার

আরও খবর

Android App