Header Border

ঢাকা, বুধবার, ২২শে মে, ২০২৪ ইং | ৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ (গ্রীষ্মকাল) ২৫.৯৬°সে
শিরোনাম
সিরাজগঞ্জ/ বিপুল ভোটের ব্যবধানে মুক্তির জয়, তাড়াশে মনি সিরাজগঞ্জে ফেন্সিডিলসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার সাংবাদিক মহির উদ্দিন আর নেই রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে ফটোগ্রাফি সোসাইটির কমিটি গঠিত জিনের বাদশা প্রতারক চক্রের ৫ সদস্য গ্রেফতার, ৬টি সোনালী রংয়ের মুর্তি উদ্ধার সিরাজগঞ্জ/ মাটির নিচে চাপাপড়া শ্রমিককে ২ ঘন্টাপর জীবিত উদ্ধার সিরাজগঞ্জ সদরে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীকে শোকজ থানার ভিতর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর ওপর হামলা, শোকজ আমিনুল ইসলাম বৃদ্ধ বয়সে সঙ্গ মেটাতে বৃদ্ধাশ্রমের ভূমিকা বাড়ছে-দিপু মনি বেলকুচি/ থানা চত্বরে হট্টগোল, চেয়ারম্যান প্রার্থীর ১০ কর্মী গ্রেফতার

সিরাজগঞ্জের তাঁত পল্লীতে নেই কোন ব্যস্ততা

নিজস্ব প্রতিবেদক :
সিরাজগঞ্জের তাঁত পল্লীতে পবিত্র ঈদ-উল-আযহা সামনে রেখে নেই কোন ব্যস্ততা। করোনা ভাইরাসের কারণে সিরাজগঞ্জের তাঁত শিল্পে ধস ও লোকসানের দিকে নূয়ে পড়ছে।
গত পহেলা বৈশাখ থেকে শুরু ঈদ-উল-ফিতর পর্যন্ত ব্যবসায়ীদের লোকসান গুনতে হয়েছে প্রায় ৩শ কোটি টাকা। করোনার প্রভাবে জেলার প্রায় সব তাঁত কারখানা বন্ধ হয়ে পড়েছে। আর বেকার হয়ে পড়েছেন এ শিল্পের সাথে জড়িত প্রায় ৮ লাখ নারী-পুরুষ। ফলে তাঁত শিল্পের সাথে জড়িত মালিক ও শ্রমিকরা পড়েছেন বিপাকে। এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে ব্যাংকের ঋনের সুদ মওকুপসহ প্রণোদনা ঘোষণার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন তাঁত মালিকরা।
সরজমিনে গিয়ে জানা যায়, জেলার শাহজাদপুর, উল্লাপাড়া, সদর, কামারখন্দ, বেলকুচি, রায়গঞ্জ, চৌহালী, কাজিপুরে তাঁত কারখানার সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজারের অধিক। এই শিল্পের সাথে জড়িত আছে ৮-৯ লাখ শ্রমিক, মালিক ও কর্মচারী। এখানকার উৎপাদিত শাড়ি, লুঙ্গী, গামছা দেশের বিভিন্ন হাট বাজারে বিক্রি হয়। বিশেষ করে উল্লাপাড়া, বেলকুচি, শাহজাদপুর, এনায়েতপুর, পাঁচলিয়া বাজারে সাপ্তাহে দুই দিন বিশাল কাপড়ের হাট বসে। এসব হাটে লাখ লাখ টাকার কাপড় বিক্রি হয়। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা আসেন এসব হাটে। এমনকি সিরাজগঞ্জের উৎপাদিত কাপড় দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি করা হচ্ছে। বৈশাখ থেকে শুরু করে দুইটি ঈদ পর্যন্ত তাঁত শিল্পে ক্ষতি হয়েছে ৩শ কোটি টাকা দাবি তাঁত মালিকদের। প্রতিবছর পহেলা বৈশাখ ও দুই ঈদকে সামনে রেখে তাঁত পল্লীতে শুরু হয় খটখট শব্দ ও তাঁত পণ্য উৎপাদনের আমেজ। কিন্তু করোনা ভাইরাস নিয়ে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে জেলার তাঁত শিল্পের উপর ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। শুধু পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে জেলায় প্রায় ১শ কোটি টাকার তাঁতপণ্য উৎপাদিত হতো। কিন্তু এবছর তাঁত কারখানা বন্ধ থাকায় উৎপাদনও বন্ধ থাকে। একারনে তাঁত মালিকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের তথ্য মতে, দেশের অন্যতম তাঁত অধ্যুষিত এলাকা সিরাজগঞ্জ জেলা। এ জেলায় তাঁত বস্ত্র উৎপাদনের জন্য অত্যান্ত সুপরিচিত। সিরাজগঞ্জ জেলার সাথে তাঁতের নাম অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িত। এ জেলায় তাঁত পরিবারের সংখ্যা ১৪ হাজার ৮৭০ এবং তাঁত সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজারের অধিক। প্রতি বছর এ জেলায় হস্ত চালিত তাঁত থেকে প্রায় ২৩ কোটি মিটার বস্ত্র উৎপাদন হয়ে থাকে।
এছাড়া এ শিল্পের সাথে ৩ লাখ লোকের কর্মসংস্থনের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। জেলার কয়েকটি হাটে তাঁতীদের উৎপাদিত বস্ত্র বিক্রি হয়ে থাকে। যার মধ্যে সোহাগপুর হাট, এনায়েতপুর হাট, শাহজাদপুর হাট ও বেলকুচির হাট উল্লেখযোগ্য।
সদর উপজেলার তাঁত ব্যবসায়ী আবুল হোসেন বলেন, তাঁতের ব্যবসা নাই। ঈদুল আযহায় ব্যবসাীরা আশা করে থাকে ভালো ব্যবসা হবে। কিন্তু করোনা ভাইরাস তাঁতীদের সেই স্বপ্ন শেষ করে দিয়েছে। শুধু ব্যবসায়ীরা না এর সাথে শ্রমিক কর্মচারীরাও পড়েছেন বিপাকে। ব্যাংক ঋণ কিভাবে শোধ করবো তা নিয়ে চিন্তাই আছি।
কামারখন্দ উপজেলার দোগাছী গ্রামের তাঁত ব্যবসায়ী আজাদুল হোসেন বলেন, পহেলা বৈশাখ থেকে শুরু করে ঈদুল আযহা পর্যন্ত তাঁতের ব্যবসা হয় জমজমাট। কিন্তু প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের কারণে বাংলা নববর্ষ ও ঈদে কোন ব্যবসা করতে পারিনি। একারণে বড় ধরণের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন তাঁত ব্যবসায়ীরা।
বেলকুচি উপজেলার তাঁত শ্রমিক আবুল কালাম বলেন, ঈদকে সামনে রেখে এই উপজেলার তাঁত পল্লীতে খটখট শব্দে শূখরিত হয়ে থাকত। করোনার কারণে নিঃশব্দ হয়ে পড়েছে তাঁত পল্লী। আমরা ক্ষতির মুখে পড়েছি। প্রতিমাসে আমরা ৭-৮ হাজার টাকা ইনকাম করতাম সেই পথটি বন্ধ হয়ে পড়েছে। সব চেয়ে বড় কথা হলো আমরা কাজ করতে পারছি না। বেকার হয়ে পড়ে আছি। কেই কোন সহযোগিতা করছে না। তাই সরকারের কাছে অনুরোধ তাঁত শিল্পের সাথে জড়িতদের আর্থিক অনুদান দেবেন।
সিরাজগঞ্জ তাঁত মালিক সমিতির সভাপতি ও বাংলাদেশ হ্যান্ডলুম ও পাওয়ার লুম অনার্স এ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক হাজী বদি উজ্জামান বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে কিছু কারখানা খোলা হয়েছে। তবে রংয়ের দাম পর্যাপ্ত পরিমান বেড়ে যাওয়ায় আমরা হিমশিম খাচ্ছি। জেলায় তিন লাখ তাঁত রয়েছে (হ্যান্ডলুম ও পাওয়ার লুম)। এখানকার উৎপাদিত শাড়ি-লুঙ্গী, গামছা দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানী করা হয়। জেলার এই শিল্পের সাথে জড়িত আছে ৮-৯ লাখ মালিক, শ্রমিক-কর্মচারী। করোনা ভাইরাসের কারণে জেলার কিছু তাঁত কারাখানা খুললেও বাকি সব বন্ধ রয়েছে। বেকার হয়ে পড়েছে লাখ লাখ শ্রমিক। বৈশাখ থেকে শুরু করে দুইটি ঈদ পর্যন্ত তাঁত শিল্পে ক্ষতি হয়েছে ৩শ কোটি টাকা। এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে ব্যাংকের ঋনের সুদ মওকুপসহ প্রণোদনা ঘোষণার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানান তিনি।
এ ব্যাপারে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহম্মেদ বলেন, বর্তমান তাঁত শিল্পের অবস্থার বিষয়টি উল্লেখ করে বরাদ্দ চেয়ে মন্ত্রনালয়ে পত্র প্রেরণ করা হয়েছে। বরাদ্দ হাতে পেলেই তাঁত মালিকদের মাঝে বিতরণ করা হবে।

SHARE

আপনার মতামত লিখুন :

আরও পড়ুন

সিরাজগঞ্জ/ বিপুল ভোটের ব্যবধানে মুক্তির জয়, তাড়াশে মনি
সিরাজগঞ্জে ফেন্সিডিলসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার
সাংবাদিক মহির উদ্দিন আর নেই
রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে ফটোগ্রাফি সোসাইটির কমিটি গঠিত
জিনের বাদশা প্রতারক চক্রের ৫ সদস্য গ্রেফতার, ৬টি সোনালী রংয়ের মুর্তি উদ্ধার
সিরাজগঞ্জ/ মাটির নিচে চাপাপড়া শ্রমিককে ২ ঘন্টাপর জীবিত উদ্ধার

আরও খবর

Android App