Header Border

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৫ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ইং | ২রা ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ (বসন্তকাল) ২৭.৯৬°সে

জাতীয়করণ থেকে বাদ পড়া প্রাথমিক শিক্ষকরা কষ্টে

নিজস্ব প্রতিবেদক:
করোনায় আর্থিক অভাব-অনটন ও কষ্টে আছেন জাতীয়করণ থেকে বাদ পড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৬ হাজার শিক্ষক। যদিও মানুষ গড়ার কারিগর এসব শিক্ষকরা সারা বছরই আর্থিক অভাবে থাকেন। সরকার ঘোষিত জাতীয়করণ দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে করোনা মহামারিতে আরো বেশি সংকট ও দুরবস্থায় পড়তে হবে। শিক্ষকতার পাশাপাশি জীবিকা নির্বাহের জন্য এসব শিক্ষকরা খণ্ডকালীন কাজ, ক্ষুদ্র ব্যবসা, টিউশন, কৃষিকাজসহ বিভিন্ন কাজের সঙ্গে জড়িত থেকে জীবিকা নির্বাহ করেন। বর্তমানে করোনাভাইরাসের কারণে তাদের বিকল্প আয়ের উৎসগুলো বন্ধ রয়েছে। ফলে চরম দুঃখ-দুরবস্থা, আর্থিক টানাপোড়েনে আছেন জাতীয়করণ থেকে বাদ পড়া এসব শিক্ষকরা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন শিক্ষক বলেছেন, সারা বছর শিক্ষকতার পাশাপাশি প্রাইভেট পড়িয়ে, বিকালে খ-কালীন কাজ করে, বাসাবাড়িতে টিউশনি, ইজিবাইক চালিয়ে কোনো রকম পরিবারের খরচ সামাল দেই। করোনার লকডাউনে এখন বিকল্প আয়ের উৎস বন্ধ রয়েছে। পরিবারে অভাব অনটন চলছে। ইতোমধ্যে ছুটি ৬ আগস্ট পর্যন্ত ঘোষণা করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে ধাপে ধাপে ছুটি আরো বাড়তে পারে। তাতে পরিবার-পরিজন নিয়ে আরো করুণ অবস্থায় দিনাতিপাত করতে হতে পারে। দ্রুত জাতীয়করণ না হলে আমাদের দুঃখ-কষ্টের সীমা থাকবে না।

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৩ সালের ৯ জানুয়ারি ২৬ হাজার ১৯৩টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের ঘোষণা দেন। কিন্তু জাতীয়করণকালীন যে পরিসংখ্যান করা হয়েছিল, তার সংখ্যা যথাযথ না হওয়ায় রেজিস্ট্রার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ৩৪টি, অস্থায়ী রেজি. বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ২৮৬টি, নন রেজি. বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ৩৩৩২টি এবং মাদার স্কুলের নামে বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ৫০৭টিসহ মোট চার হাজার ১৫৯টি বিদ্যালয় ও কর্মরত ১৬ হাজার শিক্ষক জাতীয়করণ হতে বঞ্চিত হয়। বাদ পড়া এসব শিক্ষক বিভিন্ন সময়ে অনশনসহ নানা কর্মসূচিও পালন করে। গত বছরের ১৬ জুন থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টানা ৫৫ দিন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অনশনের মতো কর্মসূচি করে। সে কর্মসূচি পালনের সময় ডেঙ্গুজ্বরে একজন শিক্ষকের মৃত্যুও হয়।

বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির নেতারা বলেছেন, বর্তমানে করোনা সংকটকালীন সময়ে শিক্ষকরা আর্থিক দৈন্যদশার মধ্যে আছেন। আমরা শিক্ষকদের অভাব-অনটন ও কষ্টের কথা তুলে ধরে গত ৬ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি খোলা চিঠি দিয়েছি।

এ ব্যাপারে সংগঠনটির সভাপতি মো. মামুনুর রশিদ খোকন বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরেই সরকারের আর্থিক সহযোগিতা ছাড়াই শিক্ষার্থীদের পাঠদান করে আসছি। জীবিকার জন্য অন্য কাজ করতে হতো। করোনার কারণে এখন তাও বন্ধ রয়েছে। এ অবস্থায় সরকার প্রধান আমাদের প্রতি সদয় না হলে স্ত্রী-সন্তান, বাবা-মা, ভাই-বোন নিয়ে অনাহারে থাকতে হবে। তাই প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে আমরা বিশেষ আর্থিক প্রণোদনাসহ পরবর্তীতে জাতীয়করণের জন্য হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, করোনাভাইরাসের কারণে বাদ পড়া এসব শিক্ষকদের জাতীয়করণের আওতায় আনার অগ্রগতি কিছুটা থমকে গেলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এ ব্যাপারে ঘোষণা আসবে।

SHARE

আপনার মতামত লিখুন :

আরও পড়ুন

সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের তদন্তে দীর্ঘসূত্রিতা লজ্জা দায়িত্বহীনতা এবং পক্ষপাতিত্বের ঈঙ্গিত বহন করে
বাংলাদেশে বিনিয়োগে যুক্তরাজ্যের ব্যবসায়ীদের আমন্ত্রণ প্রধানমন্ত্রীর
 নতুন আইজিপি কে হচ্ছেন
হু হু করে বাড়ছে চালের দাম
জুনে সড়কে মোটরসাইকেলে বেশি দুর্ঘটনা
মহাসড়কে ঈদে মহাআতঙ্ক মোটরসাইকেল

আরও খবর

Android App