Header Border

ঢাকা, শুক্রবার, ২৩শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ইং | ১০ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ (বসন্তকাল) ১৮.৯৬°সে

ঘূর্ণিঝড় আম্পানের কারণে চলনবিলে তলিয়ে যাচ্ছে পাকা ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক :

ঘূর্ণিঝড় আম্পান ও অতিবর্ষণে যমুনার পানি বাড়ায় চলনবিলের শাখা নদীগুলোতেও পানি বেড়েছে। তলিয়ে গেছে সিরাজগঞ্জসহ চলনবিলের শত শত বিঘা পাকা ধান। তলিয়ে যাওয়া ধান ঘরে তুলতে শেষ মুহূর্তে মহাব্যস্ত কৃষকরা। তবে শেষ পর্যন্ত ধান ঘরে তুলতে পারবেন কি-না, এ নিয়ে শঙ্কাও রয়েছে তাদের মধ্যে।
শুক্রবার (৫ জুন) সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, সিরাজগঞ্জের চলনবিলসহ শাহজাদপুর, কাজীপুর, উল্লাপাড়া, তাড়াশ, বেলকুচি, সদরসহ চলনবিল অঞ্চলে শত শত বিঘা পাকা বোরো ধান পানিতে তলিয়ে আছে। তলিয়ে যাওয়া ধান কাটা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কৃষকরা। ডুবো ধান কেটে ঘরে তুলতে অতিরিক্ত খরচে বিপাকে আছেন তারা।
সিরাজগঞ্জে এবার এক লাখ ৪১ হাজার ৪০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়েছে। ফসলি জমির বেশিরভাগই এখন সোনালি ধানে ভরা। আর মাত্র দুই-তিন দিন পরই গোলায় উঠতো এই ধান। করোনায় শ্রমিকের অভাবে তলিয়ে থাকা ধান কাটতে পারছেন না অনেকেই। কেউ কেউ ডুবে ডুবে ধান কাটছেন। ধান ঘরে তুলতে খরচ বাড়লেও স্থানীয় কৃষি দফতর থেকে কোনও খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন কৃষকদের অনেকেই।
উপজেলার মান্নান নগরের কৃষক আবুল হোসেন বলেন, ‘তিন একর জমি বর্গা নিয়ে বোরো আবাদ করেছি। ফলনও বেশ ভালো হয়। প্রায় এক একর জমির ধান কয়েক দিন আগে কেটেছি। কিন্তু দু’দিনের মধ্যে ক্ষেতে পানি ঢোকায় দুই একর জমির ধান তলিয়ে গেছে। শ্রমিকের অভাবে ধানগুলো কাটতে পারিনি।’ মাহিষলুটির আব্দুল করিম বলেন, ‘চার একর জমির বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। দুই একর জমির ধান পানি থেকেই কেটেছি। পানিতে পোকার সমস্যা থাকায় শ্রমিকরা ধান কাটতে চাচ্ছেন না। ৫শ’ টাকার শ্রমিক এখন এক হাজার টাকাতেও পাওয়া যাচ্ছে না। সময় ও খরচ বাড়লেও স্থানীয় কৃষি বিভাগ থেকে আমরা কোনও প্রণোদনা পাচ্ছি না।’
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কাওয়াকোলার বয়রা গ্রামের কৃষক তমিজ উদ্দিন বলেন, ‘যমুনায় পানি বাড়ায় এলাকার নিচু জমি তলিয়ে গেছে। সবজি, পাট ও তিলের পাশাপাশি পাকা ধানও ডুবে গেছে।’
সিরাজগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানায়, জেলায় ৪ লাখ ৭০ হাজার ২৫ মেট্রিক টন বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে এক লাখ ৪১ হাজার ৪০ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৯ হাজার ৮শ’ ৬৫ হেক্টরে ৪৭ হাজার ৮শ’ ৯৭ মে. টন হাইব্রিড, এক লাখ ২৯ হাজার ১০ হেক্টরে ৪ লাখ ১৭ হাজার ৭শ’ ৭৬ মে. টন উচ্চ ফলনশীল (উফশী) এবং ২ হাজার একশ’ ৬৫ হেক্টরে ৪ হাজার ৩শ’ ৫২ মে. টন লোকাল ভ্যারাইটি ধান। বুধবার (৩ জুন) পর্যন্ত জেলায় প্রায় এক লাখ ১৯ হাজার হেক্টর জমির ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. হাবিবুল হক বলেন, ‘এবার কারোনায় খাদ্য নিরাপত্তায় ধানের আবাদ বেশ গুরত্বপূর্ণ। ঘূর্ণিঝড় আম্পান ও অতি বৃষ্টির কারণে নদ-নদী, খাল-বিলে পানি বাড়ায় কিছু জায়গায় ধান তলিয়ে গেছে। জেলার ৮৫ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। ৮-১০ দিনের মধ্যে বাকি ধান কাটা শেষ হবে। ডুবো ধান ঘরে তুলতে কৃষকদের অতিরিক্ত খরচ হবে। চলমান করোনায় প্রায় ৩ হাজার কৃষককে ৫ কেজি করে আমন ধানের বীজ প্রণোদনা হিসেবে দেওয়া হয়েছে। আগামীতে বেশকিছু কৃষকের সবজি খামার গড়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। করোনায় স্বাস্থ্য বিভাগের পাশাপাশি আমরাও মাঠে আছি।

SHARE

আপনার মতামত লিখুন :

আরও পড়ুন

সিরাজগঞ্জে বাস ও সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে মা-মেয়ে নিহত
সিরাজগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে সভাপতি লিটন, সম্পাদক মাসুদ
তাড়াশে স্কুল ছাত্রী তুষি হত্যাকারীর ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন
সিরাজগঞ্জে বাবা-মা ও মেয়েকে হত্যার ঘটনায় মামলা
সিরাজগঞ্জে একই পরিবারে তিনজনকে গলা কেটে হত্যা
শাহজাদপুরে প্রান্তিক খামারীদের মান উন্নয়নে আশার প্রশিক্ষণ কর্মশালা

আরও খবর

Android App